কৃপা কল্পতরু শ্রীরামকৃষ্ণ

শ্যামপুকুর বাটীতে সকাল। কলকাতার শীতের সকাল যেমন হয়। ঘিঞ্জি এলাকা। গায়ে গায়ে বাড়ি। খোলা উনুনের ধোঁয়া ভারী বাতাসের সঙ্গে জড়িয়ে আচ্ছাদনীর মতো ঝুলে আছে। ম্যাটম্যাটে রোদ। পল্লীর জেগে ওঠার মিলিত মিশ্রিত যাবতীয় শব্দ। বারান্দায় কাকের কর্কশ চিৎকার। শ্রীরামকৃষ্ণ বিছানায় উঠে বসেছেন। কণ্ঠক্ষতের চিকিৎসার জন্যে ঠাকুর দক্ষিণেশ্বর থেকে শ্যামপুকুর বাটীতে এসে উঠেছেন। বাড়ির মালিক গোকুলচন্দ্র ভট্টাচার্য।ঠিকানা: … Read more

দক্ষিণেশ্বরে রামকৃষ্ণের আমলে যেভাবে কালীপুজো হত, এখনও কি সেভাবেই হয়?

‘রং ইতি জলধারয়া বহ্নিপ্রাকারং বিচিন্ত্য’-এই মন্ত্রে পূজারী চতুর্দিকে জল ছড়ালেন। আসনে যে পূজারী বসে আছেন তিনি সামান্য নন। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ। অঙ্গন্যাস করন্যাস পূজার সমস্ত অঙ্গ তিনি একে একে সম্পন্ন করছেন। সাধারণের থেকে তফাত এই-শ্রীরামকৃষ্ণ দেখছেন তাঁর সর্ব অঙ্গে সমস্ত মন্ত্রবর্ণ যথাযথা স্থানে উজ্জ্বল অগ্নিরেখায় ফুটে উঠছে। দেখছেন সর্পাকৃতি কুণ্ডলিনী শক্তি সুষুম্না পথে ধীরে ধীরে সহস্রারের … Read more

নাহং নাহং তুহুঁ তুহুঁ

আমি থেকে তুমিতে যাব কী ভাবে! একটা সেতু তো চাই! ব্যবধান কী খুব দুস্তর! না, এপাশ আব ওপাশ, কিন্তু সংসার নামক এক ভ্রান্তি আমাকে বোধ করাচ্ছে, বিশাল এক পরিখা। গভীর জল, হাঙর আর কুমির কিলবিল করছে। সাঁতরে পার হব, সে উপায় নেই। লাফ মারবো? যদি পড়ে যাই। সংসারীর আমি ভীতু। সংসারীর আমি হল রেশমের গুটি। … Read more

যে রামকৃষ্ণের ছেলে

‘যে রামকৃষ্ণের ছেলে, সে আপনার ভাল চায় না।’স্বামীজি বলছেন, ‘প্রাণাত্যয়েদমি পরকল্যাণচিকির্ষবঃ’ তারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েও পরের কল্যাণাকাঙ্ক্ষী। এই হল রামকৃষ্ণধর্মের মূল কথা। নিজের মোক্ষ চাইছ, না কর্তব্য থেকে পালাতে চাইছ? ভাল করে ভেবে দেখ। কর্ম ছাড়া ধর্ম থাকে কী করে! দেহ যখন ধরেছ, শ্বাস-প্রশ্বাস আছে। নাকটা টিপে ধরলে গেল গেল অবস্থা। ইন্দ্রিয়ের ফোকর দিয়ে সংসার, … Read more

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের বাণী

এই সেই বাড়ি? ঘোড়ার গাড়ি থেকে নামতে-নামতে ঠাকুর প্রশ্ন করলেন। কথামৃতকার মহেন্দ্রনাথ তাঁকে অতি সাবধানে নামাচ্ছেন। ঠাকুর ভাবস্থ। শ্রাবণের বিকেল। আকাশে বাদলে মেঘের আনাগোনা। দক্ষিণেশ্বর থেকে যখন বেরোলেন তখন কত আনন্দ! কত কথা! আমহার্স্ট স্ট্রিটে পড়া মাত্রই ভাবান্তর। আত্মমগ্ন। ইংরেজি স্টাইলের দোতলা একটি বাড়ি। পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। পশ্চিমদিকে সদর দরজা ও ফটক। কিছু কিছু ফুলগাছ … Read more

গুরু কৃপা হি কেবলম

বৌদ্ধবা একটা কথা বলেন, জীবনকে বেডার ওধার থেকে দেখ। নিজেকে বাইরে রাখ, তাহলে সত্যকে দেখতে পাবে সত্যের পবিপূর্ণ সামগ্রিকতায়। এই প্রসঙ্গে দুটি ইংরেজি লাইন মনে পড়ছে, যা এই লেখকের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, When you are an anvıl, hold you stıll, When you are a hammer, strıke your fill. যে-জীবন ধর্মাশ্রয়ী তাঁদের আমবা ধার্মিক বলি। এই পথে … Read more

কেউ মা বলে ডাকলে তাকে ফেরাতে পারব না

মা স্নেহময়ী, মা করুণাময়ী, শক্তিস্বরূপিণী, ইত্যাদি বিশেষণে বিভূষিত করলেই কি মায়ের পূজা শেষ হল? সেই পূজাই পূজা যে-পূজারী নিজেই পূজনীয় হয়ে ওঠেন। ঠাকুর স্তুতি অপছন্দ করতেন। কেশবচন্দ্রকে একবার মৃদু তিরস্কার করেছিলেন। স্বামীজী শাক্তের ব্যাখ্যা করেছেন, শক্তির উপাসকই শাক্ত। শক্তিমান হয়ে ওঠাই হল সিদ্ধি। শক্তিমান হওয়া কাকে বলে? দেহের শক্তি? না, মনের শক্তি। মনের সমস্ত দুর্বলতা … Read more

শুদ্ধ মনে জ্ঞান-চৈতন্য লাভ হয়

‘মন না মত্ত হস্তী। হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোটে। তাই সদসৎ বিচার করে সব দেখতে হয়, আর খুব খাটতে হয় ভগবানের জন্যে।’ মা বলছেন। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছাড়া ঠাকুর, মা, স্বামীজী একটিও কথা বলতেন না। নিজেদের জীবন থেকে তুলে আনতেন, আদেশ, উপদেশ। মন কেমন, চঞ্চলম, অস্থিবম। গীতায় শ্রীভগবান এই কথাই বলছেন, ‘মনচঞ্চলমস্থিরম্’। ঠাকুর বলছেন, মাছির মতো। এই … Read more

কোন পবনে! বাজছে বাঁশি

অনেক প্রশ্নের সেরা প্রশ্ন, আমাদের প্রাণ কোথায় আছে? বায়ুতে। আমাদের শরীরে একটা ‘ক্যাপটিভ এয়ার’ আছে-নিরুদ্ধ বাতাস, যার সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের কোনো যোগ নেই। শ্বাস-প্রশ্বাস হল হাপর টানা। অগ্নিকে উস্কে রাখার যান্ত্রিক কৌশল। প্রাণবায়ুর খবর রাখেন ক্রিয়াযোগীরা, আর রাখেন সহজিয়া বাউলরা। আর রাখেন সুফী সাধকরা। এই দেহ এবং এই শ্বাস। জড় দেহ নয়, চেতন দেহ। সে-দেহ কেমন? … Read more

নরেন কালী মানে না তাই ত যত কষ্ট

‘মাকে মানিস না-সেই জন্যে তোর এত কষ্ট।’ ‘আমি তো মাকে জানি না।’ ১৮৮৫ সালের ২ মার্চ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে কোন একদিন শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্রনাথের মধ্যে এই কথোপকথন। নরেন্দ্রনাথ মাকে মা কালীকে মানেন না। কেন মানেন না! যদি না-ই মানেন, তাহলে মা কালীর সাধক শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে তিনি কেন যাওয়া আসা করেন! ঠাকুরকে প্রথম যেদিন দেখলেন, … Read more