গুরু কৃপা হি কেবলম

বৌদ্ধবা একটা কথা বলেন, জীবনকে বেডার ওধার থেকে দেখ। নিজেকে বাইরে রাখ,
তাহলে সত্যকে দেখতে পাবে সত্যের পবিপূর্ণ সামগ্রিকতায়। এই প্রসঙ্গে দুটি ইংরেজি
লাইন মনে পড়ছে, যা এই লেখকের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক,
When you are an anvıl, hold you stıll,
When you are a hammer, strıke your fill.
যে-জীবন ধর্মাশ্রয়ী তাঁদের আমবা ধার্মিক বলি। এই পথে যাঁরা সব ত্যাগ করে
মানব সংসারে আলোকবর্তিকার মতো অবস্থান কবেন তাঁদের আমরা সাধক বলি।
সাধক আর তাঁর সাধনা একটা পথ ধরে চলে। সে-পথে, সেই সিদ্ধির পরিচয় আমরা
জানি। বরং যেটি আমরা জানতে চাই, সেই আলোকে কে কতটা আলোকিত হলেন।
আমরা বলি কৃপা। কৃপা কাকে বলে, কোন পথে কি রূপে সেই কৃপা আসে।
গুরু আর ঈশ্বর এক। গু শব্দের অর্থ ধর্মের আলো, রু শব্দের অর্থ দান। ধর্ম কি
দান করা যায়! ধর্ম ত কর্ম। কবে পাওয়ার নাম কৃপা। ধর্ম করতে হবে, তবেই ত
ধর্ম আমাকে ধারণ করবে। আমি এক পা এগোলে ধর্ম আমার দিকে একশো পা
এগিয়ে আসবে।
জীব আর ঈশ্বর, তুলনাটা কেমন হবে, ঈশ্বর হলেন চুম্বক, জীব হল লোহার
পেরেক। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন চুম্বক ত লোহাকে টানবেই, লোহাও চুম্বককে
টানে। উপযুক্ত সদগুরু ধর্মদান করতে পারেন। শ্রীরামকৃষ্ণ গিরিশচন্দ্রের প্রশ্নের
উত্তরে বলেছিলেন, গুরু যেন সেথো। শিষ্যকে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছেদিয়ে সরেআসেন।
শঙ্কারাচার্য বলছেন,
দয়ালুং গুরুং ব্রহ্মানিষ্ঠং প্রশান্তং
সমারাধ্য ভক্ত্যা বিচার্য্য স্বরূপম্।

যদাপ্রোতি তত্ত্বং মিদিধ্যাস্য বিদ্বান্
পরং ব্রহ্ম নিত্যং তদেবাহমস্মি।।
ভক্তি ও আরাধনা। দয়ার্দ্র প্রশান্ত ব্রহ্মপরায়ণ গুরুর আরাধনা। তারপর স্বরূপ বিচার
ও নিদিধ্যাসন। নিদিধ্যাসন কাকে বলে, অনুসন্ধেয় বিষয় শ্রবণ ও মনন। ধীরে ধীরে
নিঃসন্দেহ হওয়া। এরপরে আসবে নিষ্ঠা। ‘পঞ্চদশী’ বলছেন, ‘অভ্যাং নির্বিচিকিৎসেহর্থে
চেতসঃ সংস্থাপিতস্য যৎ। একতানত্বমেতদ্ধি নিদিধ্যাসনমুচ্যতে!’ শ্রবণ এবং মননের
দ্বারা মন নিশ্চিত বিশ্বাস লাভ করে। সেই মন তখন আত্মপ্রতিষ্ঠ হয়। সেই মনের ধরন
তখন হয় নিরবচ্ছিন্ন ধ্যানমগ্নতা।
ব্রহ্মপরায়ণ গুরুর আরাধনা। আরাধনার দুটি রূপ-বাহ্যিক ও আন্তরিক স্বামী
অখণ্ডানন্দজী একভক্তকে লিখছেন, ‘মূর্তি-চিন্তার সময় মনে রাখিও, গুরু ও ইষ্ট অভিন্ন।
তোমার ইষ্টের মুর্তির সর্বদা ধ্যান করিবে এবং জানিবে-ঐ মূর্তির মধ্যেই তোমার গুরুর
মূর্তিও নিহিত রহিয়াছে। কিন্তু কখনোই ভিন্ন ভিন্ন মূর্তিধ্যান করিবে না।
‘জপ, ধ্যান, ইষ্ট চিন্তা প্রভৃতি বিষয়ে কখনোই গুরু ভিন্ন অন্য লোকের সঙ্গে
আলোচনা করিবে না। নানা লোকের নানা কথায় ভক্ত সাধকের মনে দ্বিধার সঞ্চার
হয়, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা শিথিল হইয়া পড়ে।’
to
দুটি সমান্তরাল সংস্কারধারা আমাদের মধ্যে গ্রথিত হয় দীক্ষান্তে। গুরুর গুরুপরম্পরা,
সাধনধারা আর নিজের বংশগতির ধারা। সংস্কারই জীবনধারা ও ধরনের রূপকার। কে
জন্মায় মানুষের রূপ ধরে? বিভিন্ন সংস্কার। বৌদ্ধমতে, জন্ম, মৃত্যু, পুনর্জন্ম, তিনটি
অবস্থাই এক একটি ‘বার্দো’। ‘The word ‘Bardo’ is commonly used
denote the intermediate state between death and rebirth, but
reality bardos are occuring 3continuously throughout both life
and death, and are junctures when the possibility of liberation
or enlightenment is heightened.
in
ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ বারে বারে বলছেন, সংস্কার তৈরি করো। শুভ সংস্কার। সেটি
সঞ্চিত হবে মূলাধারে।তুমি যখন আবার আসবে তখন তুমি আরো উন্নত মানুষ হবে।

 

Leave a Comment